উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সঞ্জু বনিক সৌরভ :, পঞ্চগড় প্রতিনিধি ||
পঞ্চগড়ে খাবার ও শরবতের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে আলম হক (নাম) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী মৌসুমী আক্তার ও বাবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত বাবুল হোসেনকে আটকের চেষ্টা চলছে।নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে খাবার ও শরবতের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে আলম হককে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।নিহত আলম হকের বড় ভাই আব্দুল করিম বলেন, “আমি আলমের বউকে বলি, তুমি যদি কিছু করে থাকো তাহলে বল। বাচ্চাদের কথা চিন্তা করে তোমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করব। এরপরও সে কিছু বলেনি। পরে আমাদের ভাগনে মকছেদুলের কাছে বাবুলের সঙ্গে তার এক বছর ধরে প্রেমের কথা স্বীকার করেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”পরিবারের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “আলমের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছিল। সোমবার স্থানীয়রা ফোন করে জানায়, নিহতের স্ত্রী ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌসুমী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।”ওসি আরও বলেন, “নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেনের করা ইউডি মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তর করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই মামলায় মৌসুমীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় অপর অভিযুক্ত বাবুল হোসেনকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের মৃত্যুর পেছনে বিষক্রিয়া বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।