উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নাগরিক সময় ডেস্ক : ||
বাংলার অস্তিত্ব, শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যে গণতন্ত্রের পরিবেশ সংকুচিত হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের ওপর পুলিশি চাপ তৈরি করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে এসে এসব অভিযোগ করেন মমতা। দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিবেশ আগের মতো নেই। সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়া সংবাদমাধ্যমের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।তিনি বলেন, কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠান সরকারের অবস্থানের সঙ্গে একমত না হলে তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের পরিবেশ ও পরিচিতিতেও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।‘বাংলার অস্তিত্ব বিপন্ন’নিজের বক্তব্যে বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর ভাষায়, বাংলার অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার পথে এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।মমতার অভিযোগ, রাজ্য সরকারের মধ্যে ঔদ্ধত্য ও অহংকার তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও রাজনৈতিক রং দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।সরকারি অনুষ্ঠানে গেরুয়া রঙের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক রঙের প্রভাব থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগরাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত বা সমর্থক—এমন পরিচয়ের কারণে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।মমতা দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে কোনো মামলা না থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের আটক করার মতো ঘটনা ঘটছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য সরকার বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।বিজেপিকে নিশানাবক্তব্যের একপর্যায়ে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দলে টেনে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে অন্য দল থেকে নেতা-কর্মীদের নিয়ে এসে সংগঠন শক্তিশালী করার যে প্রক্রিয়া চলছে, তার ফল একসময় উল্টো হতে পারে। যারা বর্তমানে অন্য দলের কর্মীদের নিজেদের দলে নিচ্ছেন, ভবিষ্যতে তাদের দলেও একই ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।মোদি-শুভেন্দুকে নিয়ে মন্তব্যপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ইঙ্গিত করেও মন্তব্য করেন মমতা। তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান ও জনসম্পর্কের ধরন নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, কার সঙ্গে ছবি তোলা বা রাজনৈতিক মঞ্চে কার উপস্থিতি মানানসই—সেটিও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি বিজেপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা উঠে আসে।রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে নতুন করে বক্তব্যপশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে।তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—গণতান্ত্রিক অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা এবং বাংলার শিক্ষা-সংস্কৃতির পরিবেশ। এসব ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তিনি একাধিক প্রশ্ন তোলেন এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর চাপ প্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানান।মমতার অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা আলাদাভাবে সামনে আসবে। বর্তমানে তাঁর বক্তব্যগুলো রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।