উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোঃ মমিন আলী , নওগাঁ প্রতিনিধি : ||
নওগাঁর মান্দায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতকড়া পরানো এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় জনগণের তৎপরতায় ছিনতাইকারীরা ধরা পড়ার পর মান্দা ও বাগমারা থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে মান্দা উপজেলার ১৪ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গি গ্রামের বিপুল কুমারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।আটক ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুরের বিরামপুর থানার চাপড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মানিক হোসেন (৩৪), একই থানার দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হকের ছেলে মো. এনামুল হক এবং ফুলবাড়ী থানার মুক্তারপুর গ্রামের মো. ইউসুফ খলিফার ছেলে মো. মাহবুব হাসান মুন্না (৩৯)।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা নিজেদের ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিপুল কুমারের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর বিপুল কুমারের বাবা শুকুমার চন্দ্র ও চাচা সবুজ কুমারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একইসঙ্গে বিপুলের স্ত্রী, মা ও শাশুড়িকেও ভয় দেখিয়ে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ ও আসবাবপত্র তল্লাশি করেন।এ সময় তারা বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা তাদের পিছু নেন। পরে ছিনতাইকারীরা একটি যানবাহনে করে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনগণ ধাওয়া করে বাগমারা থানাধীন সিমলা বাজার এলাকায় তাদের আটক করতে সক্ষম হন। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তাদের আটক করা হয়।খবর পেয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে মান্দা থানা পুলিশ ও বাগমারা থানা পুলিশের সহায়তায় আটক তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।পুলিশের প্রাথমিক তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে হাতকড়া, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের সচেতনতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণেই অভিযুক্তদের দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে।