উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোঃ মমিন আলী :, নওগাঁ প্রতিনিধি ||
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় ৭ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর (১২) বাল্যবিবাহের আয়োজন পণ্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে অভিযান শেষে আটক বরকে নিয়ে ফেরার পথে পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সমাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৭ম শ্রেণিপড়ুয়া ওই ছাত্রীর বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে অভিযুক্ত বর আল-আমিনকে আটক করা হয়।পরে আটক বরকে সরকারি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় ২৫-৩০ জনের একটি দল গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় তারা পুলিশ ও প্রশাসনের স্টাফদের ওপর হামলা চালিয়ে আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্রাই থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে আত্রাই থানার অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বর আল-আমিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুব আলম জানান, বাল্যবিবাহের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। পরে বরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ-প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। আইন অমান্য করে বাল্যবিবাহের আয়োজন, সরকারি কাজে বাধা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ ঘটনায় বাল্যবিবাহের আয়োজন এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মুন্নাফ, রাব্বি, ইউনুস ও সজলসহ নামীয় চারজন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে আত্রাই থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।