উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শরিফুল ইসলাম :, টাঙ্গাইল প্রতিনিধ ||
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সুমন সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায়, সুমন সিদ্দিকী কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে কালিহাতী থানায় দায়ের করা মামলায় তিনি সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়।মগড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) ও উপপরিদর্শক (এসআই) আ. হালিম মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে সুমন সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে।পুলিশের নথি অনুযায়ী, সুমন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানার এফআইআর নং-২৮, তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া কালিহাতী থানার এফআইআর নং-৮/১০৭, তারিখ ৬ মে ২০২৫-এর একটি মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।এদিকে সুমন সিদ্দিকীর ভাই সাদিকুল ইসলাম ওরফে শাওনকে গত ২১ আগস্ট ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, শাওনের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপের তথ্য পর্যালোচনা করে ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।পুলিশের দাবি, শাওনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ছোট ভাই সবুজ সিদ্দিকীর নামও তদন্তে এসেছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সুমন সিদ্দিকীর মাদকসংক্রান্ত কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা-ও তদন্ত করছে পুলিশ।কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, “সুমন সিদ্দিকী আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর সুমন সিদ্দিকীকে থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।পুলিশের নথিতে সুমন সিদ্দিকীর স্থায়ী ঠিকানা কালিহাতী উপজেলার কদিম হামজানী (মধ্যপাড়া) এলাকায় উল্লেখ রয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।