উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোঃ মমিন আলী , নওগাঁ প্রতিনিধি : ||
নওগাঁর মান্দায় নতুন রাস্তা নির্মাণের নামে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থের কাজ বাস্তবায়ন না করেই পুরো টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের কাঁশোপাড়া ফ্যালেঙ্গাপাড়া গ্রামে সোবহানের বাড়ি থেকে মহসিন প্রফেসরের বাড়ি অভিমুখে নতুন রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে এ অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্পের আওতায় বাস্তবে কোনো রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। অথচ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।বরাদ্দ ২ লাখ টাকাঅনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের কাঁশোপাড়া ফ্যালেঙ্গাপাড়া গ্রামের সোবহানের বাড়ি থেকে মহসিন প্রফেসরের বাড়ি পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্প এলাকায় গিয়ে রাস্তা নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো কাজ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যে স্থানে নতুন রাস্তা নির্মাণের কথা বলা হয়েছে, সেখানে প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী মাটি ভরাট বা রাস্তা নির্মাণের কোনো কার্যক্রমই চোখে পড়েনি।অন্যদিকে প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বরাদ্দের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কাজ বাস্তবায়ন না করে কীভাবে প্রকল্পের বিল উত্তোলন করা হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।প্রকল্প সভাপতির দাবি, ‘আমি কিছুই জানি না’প্রকল্পটির সভাপতি (পিআইসি) মফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রকল্পের বরাদ্দ বা কাজ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। শুধু মজুরি দিয়ে আমাকে কাজ করানো হয়েছে।”প্রকল্পের সভাপতি হয়েও কাজ, বরাদ্দ কিংবা অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা না থাকার বক্তব্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।মফিজুর রহমান আরও দাবি করেন, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় কর্মরত খাদ্য কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম প্রকল্পটির বিষয়ে সবকিছু জানেন। তাঁর অভিযোগ, মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলামের দূর-সম্পর্কের মামা হওয়ায় অহিদুল ইসলামের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।পিআইও বললেন, ‘বর্ষা শেষে কাজ হবে’অভিযোগের বিষয়ে মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, রাস্তাটির কাজ এখনো করা হয়নি।তিনি বলেন, “রাস্তাটির কাজ এখনো করা হয়নি। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে কাজটি করা হবে।”তবে কাজ এখনো বাস্তবায়ন না হলেও প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থের বিল কীভাবে উত্তোলন করা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।প্রকল্পের সভাপতি মফিজুর রহমান কাজের বিষয়ে কিছুই জানেন না—এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও আরিফুল ইসলাম বলেন, “সভাপতিকে ফরমালিটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”তবে প্রকল্পের সভাপতি যদি প্রকল্পের বরাদ্দ, কাজ ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে অবগত না থাকেন, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কী ছিল—এ প্রশ্নেরও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।তদন্তের দাবি স্থানীয়দেরস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও কাজ বাস্তবায়ন না হলে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়।তাদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ, কাজের পরিমাণ, বিল উত্তোলন, প্রকল্প কমিটির কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করা প্রয়োজন। কাজ বাস্তবায়নের আগে যদি প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।এ ঘটনায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তের দাবি উঠেছে।অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।