উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নাগরিক সময় ডিজিটাল : ||
যশোরের শার্শা উপজেলার সোনামুখো বিলে মৎস্যঘেরে ব্যাপক মাছ মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ঘের মালিকদের দাবি, দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র চালানো সম্ভব না হওয়ায় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ মারা গেছে। তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।ঘটনাটি ঘটে শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের এ এফ মৎস্য খামারে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঘেরে মাছের মড়ক শুরু হয়। পরদিন সকালে পানিতে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়।খামার মালিকদের ভাষ্য, বৃষ্টি ও পরবর্তী তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্যাডেল হুইল অ্যারেটরসহ অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র চালানো সম্ভব হয়নি। এতে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গিয়ে মাছ মারা যায়।প্রায় ২০০ বিঘা আয়তনের ঘেরটিতে ৬০ লাখের মতো পাবদা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়েছিল বলে দাবি মালিকদের। তাদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু পাবদা মাছের বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। অন্যান্য মাছসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।ঘেরের অন্যতম মালিক আলফাজুল হক জানান, মাছের বড় একটি অংশ বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। মাছের খাবার বাবদ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালামাল বাকিতে নেওয়া হয়েছিল। মাছ মারা যাওয়ায় এখন সেই দেনা পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।তবে লোডশেডিংয়ের কারণে মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ মানতে রাজি নয় যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, ঘটনার দিন ওই এলাকায় মাত্র ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। একই লাইনের আওতায় থাকা আরও ১২টি মৎস্যঘেরে এমন কোনো সমস্যা হয়নি বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার সঙ্গে মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগের বাস্তবতার মিল নেই।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, পানিতে অক্সিজেনের ঘনত্ব কম থাকলে ৪০ মিনিটের মধ্যেও মাছের মড়ক শুরু হতে পারে। তবে এত ব্যাপক মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।তদন্ত কমিটিতে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রয়েছেন।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, মাছ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতেই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।