উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোঃ মমিন আলী , নওগাঁ প্রতিনিধি : ||
নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সরকারি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে বলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী রোগীর জন্য নিজ অর্থে স্যালাইন কিনে তা রোগীর স্বজনের হাতে তুলে দেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজ নিলেন মন্ত্রীরোববার (২৩ আগস্ট) সকালে নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী।এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মো. আক্তারুজ্জামান আলাল, আবাসিক চিকিৎসক মো. আবু জার গফ্ফারসহ চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসাসামগ্রী এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন তিনি।সরকারি স্যালাইন থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে কেনার অভিযোগপরিদর্শনের একপর্যায়ে এক রোগীর স্বজন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরকারি স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও তাদের বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে বলা হয়েছে।অভিযোগটি শুনে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।পরে সংশ্লিষ্ট রোগীর প্রয়োজনীয় স্যালাইন নিজ অর্থে কিনে রোগীর স্বজনের হাতে তুলে দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। ঘটনাটি উপস্থিত রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।সরকারি ওষুধ যথাযথভাবে ব্যবহারের নির্দেশএ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাপনায় রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী যথাসময়ে এবং বিনামূল্যে রোগীদের দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সরকারি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোনো রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ, স্যালাইন কিংবা চিকিৎসাসামগ্রী কিনতে বাধ্য করা যাবে না। কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আকস্মিক পরিদর্শনে স্বস্তি রোগী-স্বজনদের।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন এবং অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করা এবং রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী যথাযথভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানান।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল পর্যায়ের এমন আকস্মিক পরিদর্শন অব্যাহত থাকলে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান আরও বাড়বে এবং অনিয়মের প্রবণতা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।