উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নাগরিক সময় ডিজিটাল : ||
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে (১২) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বড় ধরনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ছাদে বসে মাদক সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় এবং বাধা দেওয়ায় পরিবারের চারজনকেই একে একে হত্যা করা হয়েছে।রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে অভিযান চালিয়ে এ জোড়া-জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটকরা হলেন রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ার সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩)।মাদকের আড্ডা দেখে ফেলাই কাল হলোরংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, আটক সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রায় সময়ই গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে উঠে গোপনে মাদক সেবন করতেন। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শেষ রাতের দিকে তারা ছাদে বসে আড্ডা ও মাদক সেবন করছিলেন।এ সময় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ঘটনাটি দেখে ফেললে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ তাঁকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে শব্দ শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা এগিয়ে আসলে তাঁকেও হত্যা করা হয়। এরপর মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী ঘর থেকে বের হয়ে আসলে তাঁকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। সবশেষে ছোট ছেলে প্রিয়ম আসামিদের চিনে ফেলায় তাকেও এক এক করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা ঘর থেকে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে চম্পট দেয়।হত্যাকাণ্ড যেভাবে প্রকাশ পায়গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই এই পরিবারের সদস্যদের কারও কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না স্বজনেরা। ফোন দেওয়া হলে চারজনের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার রাতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝোলানো এবং ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে জরুরি সেবা ৩৩৩/৯৯৯ এবং পুলিশকে সংবাদ দেন।খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিভৎস দৃশ্য দেখতে পায়। বাড়ির ছাদ থেকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর, ছাদের সিঁড়ি থেকে স্ত্রী ও মেয়ের এবং খাটের নিচ থেকে ছোট ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ কমিশনার জানান, আটকদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় অন্য কারও ইন্ধন বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।