উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোঃ মমিন আলী , নওগাঁ প্রতিনিধি : ||
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসার ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশাজনক চিত্র। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ১৮ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৭ জন। তাদের মধ্যে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।গত ১১ আগস্ট ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসার ফলাফলের বিষয়টি সামনে আসে। প্রতিষ্ঠানটির ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। বাকি ১৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ১৭ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পাস করেছে। অর্থাৎ অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক সংখ্যা ১৫ জন। অন্যদিকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮ জন। এত কমসংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজনের উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে।ফলাফল প্রকাশের পর অভিভাবকদের অনেকেই মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, ক্লাসে উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহযোগিতা এবং পরীক্ষার আগে যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারত।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের যথাযথ শিক্ষা প্রদান ও পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।তবে শুধু ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী ফলাফল, নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতিসহ সামগ্রিক বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।অভিভাবক ও স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসার এবারের ফলাফলকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। কেন এমন ফলাফল হলো এবং এর পেছনে কী কী কারণ রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে আগামী দিনে শিক্ষার মান ও ফলাফল উন্নত করা সম্ভব হতে পারে।এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।