উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মোঃ মমিন আলী , নওগাঁ প্রতিনিধি : ||
নওগাঁর মান্দায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রায় ৪ শতাধিক ফলন্ত কলাগাছ কেটে সাবাড় করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী আব্দুল জলিলের অভিযোগ, শরিকান জমি নিয়ে একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, মজিদুল ইসলাম ও শাহজাহান আলী গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে নওগাঁ আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।আব্দুল জলিল বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার সকালে আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের দেড় বিঘা জমিতে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে থাকা ফলন্ত কলাগাছগুলো ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে দেওয়া হয়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, কলাগাছ কাটতে বাধা দিতে গেলে সংঘবদ্ধ লোকজন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এ সময় তারা প্রাণভয়ে বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে অভিযুক্তরা বাড়ির সদর দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।আব্দুল জলিলের অভিযোগ, এ সময় তার ছোট ভাই ইসমাইল হোসেনের বসতবাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ভুক্তভোগী আব্দুল জলিল বলেন, “আমাদের দেড় বিঘা জমির ৪ শতাধিক ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিষয়টি আদালতেও বিচারাধীন রয়েছে। এরপরও প্রকাশ্যে এসে এভাবে গাছ কেটে দেওয়ায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।