উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নাগরিক সময় ডেস্ক : ||
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা স্বতন্ত্র ভোটারদের একটি বড় অংশ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল নীতির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির প্রতি স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন বাড়ছে। এ পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটদের মূলধারার নেতৃত্বের জন্য নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় একটি অংশ ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল এজেন্ডার সঙ্গে একমত। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬৪ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিলিয়নিয়ারদের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে মাত্র ১৫ শতাংশ ভোটার এ ধরনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।এ ছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার দেশের নাগরিকদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ২৯ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পরিচালিত এ জরিপে ৪ হাজার ৫০৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন ১ হাজার ৯৭ জন নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটার।প্রগতিশীলদের উত্থানে ডেমোক্র্যাটদের নতুন সমীকরণযুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে স্বতন্ত্র ভোটাররা প্রায়ই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে তাদের নীতিগত অবস্থান ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল শিবির বর্তমানে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, ধনীদের ওপর বাড়তি কর, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিকে সামনে আনছে। এসব নীতি তরুণ ভোটার ও স্বতন্ত্রদের একটি অংশের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।তবে প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাদের নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের এই অংশকে ‘চরমপন্থি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ‘কমিউনিস্ট’ তকমা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছে তারা।‘কমিউনিস্ট’ তকমা নিয়ে ভোটারদের দ্বিধাজরিপে দেখা গেছে, নীতিগতভাবে প্রগতিশীল অনেক প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন থাকলেও প্রার্থীর পরিচয়ের ক্ষেত্রে ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কমিউনিস্ট ধারণার প্রভাব রয়েছে।স্বতন্ত্র ভোটারদের ৪৩ শতাংশ জানিয়েছেন, ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে পরিচিত কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা তাদের কম। অন্যদিকে ২২ শতাংশ ভোটার বলেছেন, এ ধরনের পরিচয় তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।অন্যদিকে রিপাবলিকানদের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘ম্যাগা’ রাজনীতির প্রতিও স্বতন্ত্র ভোটারদের অনাগ্রহ দেখা গেছে। জরিপে প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ম্যাগা সমর্থক কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা তাদের কম।অর্থনীতি ও সামাজিক ইস্যুতে ভিন্নমতসব নীতিতে অবশ্য স্বতন্ত্র ভোটারদের অবস্থান এক নয়। বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার প্রস্তাবে তাদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোটার এর পক্ষে মত দিয়েছেন, আর ৩১ শতাংশ বিরোধিতা করেছেন।অভিবাসন ইস্যুতেও ভোটারদের মতামত বিভক্ত। প্রায় ৪০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার অভিবাসনের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, বিপরীতে ৩০ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।এ ছাড়া ৪০ শতাংশ ভোটার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানোর পক্ষে এবং ৪৭ শতাংশ বিদেশি সহায়তা কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে নতুন প্রবণতাসাম্প্রতিক প্রাথমিক নির্বাচনে স্বাস্থ্যসেবা ও ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির মতো ইস্যু সামনে রেখে কয়েকজন প্রগতিশীল প্রার্থী সফল হয়েছেন। এর ফলে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রভাব বাড়ছে।বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে প্রগতিশীল নীতির প্রতি সাধারণ ভোটারদের আগ্রহ বাড়ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত বামঘেঁষা পরিচয় ভোটের মাঠে ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—প্রগতিশীল নীতি ও মধ্যপন্থী ভোটারদের প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।