উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সঞ্জু বনিক সৌরভ :, পঞ্চগড় প্রতিনিধি ||
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং জমি বন্ধক ফেরতের জন্য রাখা দেড় লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের প্রধানপাড়া এলাকায়। ভুক্তভোগী শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান গড়িনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে দুপুরের খাবারের জন্য বাড়িতে যাওয়ার পথে প্রধানপাড়া এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন নারী ও পুরুষ তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। একপর্যায়ে একটি কাঁঠালগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে গলা থেকে পা পর্যন্ত বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।হামলায় শিক্ষকের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভেঙে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, স্কুলব্যাগে থাকা জমি বন্ধক ফেরতের জন্য আনা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।পরে শিক্ষকের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ভুক্তভোগী শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান বলেন, তাঁকে কীভাবে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল, তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে হত্যাসহ পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে আনসার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে বাড়িতে এসে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র জানান, শিক্ষক বিপদে পড়েছেন জানতে পেরে তাঁকে উদ্ধারের জন্য গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এরই মধ্যে ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।