উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নাগরিক সময় ডেস্ক : ||
২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে ভয়াবহ বোমা হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়সুন্দরাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট।শুক্রবার (৩১ জুলাই) তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ ‘অপরাধমূলক অবহেলার’ দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ থাকায় বাস্তবে এই সাজা কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে এক ধরনের অলিখিত স্থগিতাদেশ চালু রয়েছে। ফলে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা পরবর্তীতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকেও এই নীতি অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন।২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের দিনে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ কয়েকটি এলাকায় একযোগে বোমা হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেল। ভয়াবহ ওই ঘটনায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে ৪২ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন।ঘটনার পর তদন্তে উঠে আসে, হামলার আগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেই তথ্য অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। এ ব্যর্থতার জন্য সাবেক পুলিশপ্রধান জয়সুন্দরাকে দায়ী করা হয়।আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে জয়সুন্দরার। একই ঘটনায় দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোর বিরুদ্ধেও পৃথক সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা রয়েছে।শ্রীলঙ্কার তদন্ত সংস্থাগুলো ওই হামলার জন্য দেশীয় উগ্রপন্থী দুটি সংগঠনকে দায়ী করেছিল। হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অনেকেই পরে নিহত হলেও, সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগে আরও কয়েকজনের বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলছে।তবে দেশটির ক্যাথলিক চার্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার পেছনে আরও বড় কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তাদের মতে, যাদের এখন পর্যন্ত দায়ী করা হয়েছে, তারা হয়তো পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নয়।