উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক : ||
জুলাই আন্দোলনের চেতনা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন রাজনীতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, তাদের উচিত জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে সেই পরিকল্পনা ও রূপরেখা তুলে ধরা।রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক বিষয়। তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদমূলক রাজনীতি বা উসকানিমূলক বক্তব্য কেবল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে এবং স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কখনো গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিক—এমন পরিস্থিতি কেউ চায় না। তাই সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে পুরোপুরি স্বাধীনতা না দিয়ে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি যৌক্তিক নয়। সংসদ আইন প্রণয়ন করবে, প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করবে এবং বিচার বিভাগ আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করবে—এই তিন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়েই প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বিষয়ে জনগণের মতামত জানার জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করা যেতে পারত। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কিছু কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, কয়েকটি কমিশন প্রয়োজনের তুলনায় ব্যক্তি-কেন্দ্রিক উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছিল বলে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।তিনি জানান, সরকার আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ আনতে যাচ্ছে। নতুন আইনে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি এবং বিচারিক এখতিয়ার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মানবাধিকার আইন সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় আইন বা নীতির মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া হবে না।বক্তব্যের শুরুতে তিনি ‘মব জাস্টিস’-এর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “মব কখনোই বিচার হতে পারে না। এটি একটি অপসংস্কৃতি। আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়লে এমন সংস্কৃতির জন্ম হয়। তাই আইনের শাসনকে আরও কার্যকর করতে হবে।”অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এছাড়া বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দিনসহ আরও অনেকে।